ই-পেপার মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯ ৬ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯

দিনে থানায় যেতে বাধা, রাতে মামলা
ঝালকাঠিতে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯, ২:২৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ঝালকাঠিতে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন

ঝালকাঠিতে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন

ঝালকাঠি সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত খাদেম মোল্লার ছেলে খলিল মোল্লার (৪২) বিরুদ্ধে একই বাড়ীতে ৫ম শ্রেণি পডুয়া স্কুল ছাত্রীকে যৌন নিপিড়নের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার অভিযোগে দিনের বেলায় থানায় মামলা দায়ের করতে যেতে বাধা দেয়ায় রাতে মামলা দায়ের করেছে নিপীড়িতের পরিবার। ১০ অক্টোবরের ঘটনায় ১২ অক্টোবার মামলা দায়ের করা হলেও ১৬ অক্টোবর দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হয়।

মামলা সূত্রে জানাযায়, গত ১০ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে একই বাড়ীর মৃত খাদেম আলীর ছেলে খলিল মোল্লার ঘরে টিভি দেখার জন্য খলিলের ভাগ্নি  (সুমনা ছদ্ম নাম) সুমনাকে ডাক দেয়। এসময় সুমনা টিভি দেখার জন্য খলিলের ঘরে গিয়ে সামনের কক্ষে খাটের উপর বসে টিভি দেখতে থাকে। হঠাৎ খলিল মোল্লা সুমনার কাছে বসে বুকে একাধিকবার হাত দিলে চিৎকার করে সে। খলিল দ্রুত সামনের কক্ষ থেকে ভিতরের কক্ষে চলে যায়। জানতে চাইলে খলিলের আচরনণ সম্পর্কে জানায়।

এ বিষয় মামলার বাদী ভিকটিমের খালা শাহানাজ বেগম জানান, গত ১০ তারিখ বিকেলে একই বাড়ীর খলিল মোল্লার বসত ঘরে আমার বোনের মেয়ে ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া স্কুল ছাত্রীর উপর ঝাপিয়ে পড়ে যৌন চরিতার্থ কামনা করার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখ জনক। আর তার চেয়েও দুঃখ জনক হলো খলিলের বড় ভাই ফরিদ মোল্লা ঘটনার দিন সুমনার খালা শাহানাজ এ বিষয় বাড়ী থেকে আইনের আশ্রয় নিতে মটরসাইকেল যোগে থানায় যাওয়ার সময় কিছুদূর যাওয়ার পর পথিমধ্যে ফরিদ মোল্লা মটরসাইকেল থামিয়ে মিমাংসার কথা বলে। আমাকে মটর সাইকেল থেকে নামিয়ে দিয়ে মিমাংশার কথা বলে বাড়ীতে নিয়ে যায়। বাড়ীতে গিয়ে ঐ এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আবছার উদ্দীনের ছেলে মানিক ও একই বাড়ীর হোসেন হাওলাদারের ছেলে গফফারকে নিয়ে মিমাংশার কথা বলে আমাদের থানায় যেতে বাধা দেয়। পরে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আমাকে অর্ধলক্ষ (৫০ হাজার) টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেয়। আমি প্রস্তাবে রাজি না হলে সুমনার চিকিৎসার বাবদ ১০ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব করলে আমি মামলা করার কথা বলি। এর পর থেকে আমি আমার বোন (সুমনার মা) শিউলির সাথে যোগাযোগ করলে সে আমাকে থানায় যেতে বলে। আমাদের থানায় যাবার কথা শুনে খলিল বিভিন্ন স্থানে তার লোকজন পাহাড়ায় রাখলে আমরা থানায় যেতে পারিনি। পরে গত ১২ অক্টোবর রাতে আমি আমার ভগ্নিপতি জুয়েল ও আমার বেয়াই জাহাঙ্গীরের সহযোগিতায় ঝালকাঠি সদর থানায় গিয়ে একটি এজাহার দায়ের করি (যাহার নম্বর-১৪)।

এ বিষয় বাদীর ভগ্নিপতি জুয়েল জানায়,  সুমনা আমার ভায়রার মেয়ে তার মা-বাবা ঢাকায় চাকরি করেন। সুমনা আমার স্ত্রীর বড় বোন শাহানাজ আপার কাছে থেকে লেখাপড়া করে। ঘটনাটি শুনে আমি আমার স্ত্রীর বোন শাহানাজ আপার কাছে যাই এবং ঘটনাটি সে আমাকে বিস্তারিত বলে। আমি ঘটনা শুনে তাদেরকে থানায় যেতে বলি এসময় শাহানাজ আপা আমাকে জানায় খলিলের বড় ভাই ফরিদ সহ স্থানীয় মানিক ও গফফার মিলে মিমাংশার কথা বলে আমাদের পঞ্চাশ হাজার টাকার কথা বলে, আমারা না বলায় তারা আবার সুমনার চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলে আমি টাকা না নিয়ে খলিলের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বলি। তারপর থেকেই খলিল তার লোকজন দিয়ে আমাকে  ফলো করে। আমি তাদের ভয়ে ঝালকাঠি যেতে পারছি না। আমি তার এসকল কথা শুনে গত ১২ অক্টোবর রাতে শাহানাজ আপা, জাহাঙ্গীর ভাই ও সুমনাকে সাথে নিয়ে ঝালকাঠি সদর থানায় গেলে শাহানাজ আপাকে নিয়ে ঝালকাঠি সদর থানায় হাজির হই।

এ বিষয় নির্যাতনের শিকার ঐ স্কুল ছাত্রী জানায়, বিকেল বেলা খলিল কাকার ঘরে আমি টিভি দেখতে যাই। আমি ঘরে উঠে সামনের রুমের বিছানার উপর বসে টিভি দেখতে থাকি হঠাৎ খলিল কাকা আমার পাশে বসে আমার বুকে সহ বিভিন্ন স্থানে হাত দিতে থাকলে আমি তার ভয়ে চিৎকার করি।
এ ব্যাপারে শিশু নির্যাতন অভিযোগে অভিযুক্ত আসামী খলিল মোল্লা ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরে (০১৭৩৯-০৪৪৪১৮) কল করে জানতে চাওয়া হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয় ঝালকাঠি সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবু তাহের মিয়া জানান, আইনগত প্রক্রিয়ায় সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আসামী ধরার জন্য চেষ্টা অব্যাহত চলছে।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]